Foto

ইসিতে কর্তৃত্ব: ৪ কমিশনারকেও সব জানানোর নির্দেশ


নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনায় আইন ও বিধিমালা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি অন্য নির্বাচন কমিশনারদের কাছেও সব বিষয়ে নথি উপস্থাপন করতে হবে ইসি সচিবালয়কে। ইসি সচিবালয়ে ‘একক কর্তৃত্ব’ নিয়ে কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসিতে প্রশ্ন উঠার পর মঙ্গলবার কমিশনের এ অফিস আদেশ জারি হয় ইসি সচিবালয় থেকে। অভিযোগ উঠেছিল, ইসি সচিবালয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব ছাড়া অন্য নির্বাচন কমিশনারকে জানানো হয় না।


কিছু কিছু কার্যক্রমে বিধি-বিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে উল্লেখ করে চার নির্বাচন কমিশনার সম্প্রতি আন-অফিসিয়াল (ইউও) নোটও দেন।

সরকারের ইঙ্গিতে ইসি সচিবালয় কমিশনের তোয়াক্কা না করে কাজ করছে বলে অভিযোগ আসে বিএনপির কাছ থেকেও।

এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ইসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, “ইসি সচিবালয়ের সব কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন বিধি-বিধান, রীতি, পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।

“সচিবালয়ের কিছু কিছু কার্যক্রম ইসি সচিবালয় আইন ও কার্যপ্রণালী বিধিমালার বিধি বিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে, যা ৪ নির্বাচন কমিশনারের নজরে এসেছে। এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রতিপালন করে ইসি সচিবালয়ের সব কাজ পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা দিয়েছেন।”
শাখা হতে কোনো বিষয়ে নথি উপস্থাপনকালে তা কোন পরর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে, তা নথিতে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

“নির্বাচন কমিশন বরাবর কোন নথি উপস্থাপন হবে, তা কার্যপ্রণালী বিধির তফসিলে উল্লেখ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন বরাবর উপস্থাপিতব্য বিষয়াদির ক্ষেত্রে এ বিধির ৩(৫) অনুসরণ করতে হবে।”

চার নির্বাচন কমিশনারের নোটে বলা হয়েছিল- “নির্বাচন কমিশন কারর্যপ্রণালী বিধিমালার ৩ বিধির উপ বিধি ৫ এ কমিশনের কাছে উপস্থাপিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির উল্লেখ করা হয়েছে। যে পদ্ধতিতেই নিষ্পত্তি করা হোক না কেন বিধির ৪(৪) উপ বিধি মতে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়াদি নিষ্পত্তি করার বিধান থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।”

বিধি-বিধান অনুসরণ সংক্রান্ত অফিস আদেশের মাধ্যমে ইসি সচিবালয়ে একক কর্তৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইসি সচিবালয়কে আমরা বিধি-বিধান অনুসরণের জন্য বলেছি। এখন তারা এটা প্রতিপালন করবে।

“আসলে এটা ইসি সচিবালয়ের একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। এখন তো আমাদেরকে অবহিত করছে।”

কিছু দিন পর একসঙ্গে

দেড় বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কক্ষে প্রায়ই আলোচনায় বসতে দেখা যেত সব নির্বাচন কমিশনারকে। তবে ইভিএম নিয়ে আরপিও সংস্কার সংক্রান্ত ৩০ অগাস্টের কমিশন বৈঠকের পর ৫ সদস্যের ইসিতে সেই ধরনের ঘরোয়া বৈঠক আর হয়নি।
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হোটেল র‌্যাডিসনে একসঙ্গে ফেমবোসা সম্মেলনে থাকলেও ৩ সেপ্টেম্বর ও ২২ সেপ্টেম্বরে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে একসঙ্গে ছিলেন না নির্বাচন কমিশনাররা। এরপরই চার নির্বাচন এক হয়ে ইউও নোটও দেন।

সিইসির কক্ষে না গেলেও চার নির্বাচন কমিশনার নিজেদের মধ্যে প্রতিনিয়ত বসছিলেন।

মঙ্গলবার আগের মতোই সিইসির কক্ষে একসঙ্গে বৈঠক করলেন তারা সবাই।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, “এটা ছিল পিউরলি ঘরোয়া আলোচনা। আমরা অনেক ইস্যু নিয়ে নিজেরা আলোচনা করেছি। আপনারাই আমাদের বিষয়টি (ইউও নোট) নিয়ে অস্বস্তি দেখছেন। আসলে আমরা তো অস্বস্তিতে নেই। আগেও অনানুষ্ঠানিক এভাবে আমরা বসতাম; আজও বসেছি।”

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ