Foto

আলসেমি কাটানোর সহজ উপায়


অলসতা বা আলসেমি আমাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। আলসেমি আমাদের জীবনের নানা কারণে আসতে পারে। কর্মব্যস্ততার অভাব হোক বা মানুষিকতা, যেকোনো কারণের জন্যে আলসেমি আমাদের জীবনে বাসা বাঁধে। হয়তো অনেক সময় কর্মব্যস্ততা থাকলে বাঁধাধরা কাজের গণ্ডি টুকু ছাড়া কোন কাজ করতে ইচ্ছা হয় না। সঠিক মানসিকতা এবং উদ্যম ছাড়া কাজ করতে ইচ্ছা হয় না।


আমরা অনেক সময় ভাবি কীভাবে নিজেদের ব্যস্ত রাখা যায় বা কিভাবে দিনের বেশিরভাগ সময়কে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায় বলে সেই মজ্জাগত আলসেমি চলে আসে। অনেকেই এই আলসেমি কাটানোর জন্য নানা উপায়ে ভেবে বের করলেও ঠিক করে উঠতে পারেন না যে কোন উপায় বা পথে এগোলে নিজের অলসতা কাটানোর সম্ভব হবে। ফলে যে আলসেমি আজ কারুর দিনের কিছুটা সময় নষ্ট করছে ভবিষ্যতে সেই আলসেমি তার ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু কিভাবে নিজের আলসেমি কাটিয়ে উঠবেন। এই আলোচনায় খুঁজে নেওয়া যাক তার কিছু স্বাস্থ্যকর এবং সঠিক সমাধান।

১. সঠিক কারণ খুঁজুন অনেক ক্ষেত্রেই আমরা আলসেমি সঠিক কারণ জানি না। আর ঠিকঠাক কারণ না জানার জন্য আমরা বারবার পিছিয়ে পড়ি। তাই যদি আপনার মনে হয়ে থাকে যে আপনি অলসতায় ভুগছেন তাহলে প্রথমেই হতাশ না হযে তার কারণ খুঁজুন। ঠিক কী কারণে এই অসুবিধা হচ্ছে টা জানার চেষ্টা করুন। কর্মজীবনে হতোদ্যম হয়ে পড়া থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়া, এসব আপনার অলসতার কারণ হতে পারে। চিকিৎসা শাস্ত্রে বলে রোগ সারাতে হলে প্রথমে দরকার সঠিক রোগ নির্ণয়। এখানেও তার ব্যতিক্রম নেই। আসল কারণ খুঁজে পেলে সেটা কীকরে সমাধান করা যেতে পারে তার রাস্তা বের করা সহজ হয়ে পড়ে। যদি অনেক গুলো কারণে আপনি বিভ্রান্ত হন তাহলে একটু পিছিয়ে গিয়ে শুরুর কথা ভাবুন। সমাধান বেরোবেই।


২. গুছাতে শিখুন আলসেমি বা অলসতা কাটানোর প্রথম এবং প্রধান ধাপ এটা। নিজের কাজ কে গুছাতে শিখুন। পরনির্ভরশীলতা কমান। নিজের কাজ করার জন্যে অন্য কে ডাকবেন না। নিজের কাজ গোছানো আলসেমি কাটানোর প্রধান ধাপ। সেটা নিজের ঘর হোক বা নিজের কাজের বা পড়ার টেবিল। রোজ নিজের ব্যবহার করা জিনিস গুছিয়ে রাখলে ফেলে রাখার মনোভাব কমবে। ইচ্ছা হলে নিজের কাপড় বা জামা নিজে পরিস্কার করুন সপ্তাহে এক দিন। এই ছোটো ছোট কাজগুলো একসময় আপনার অলসতা ভরা চিন্তা ভাবনাকে দূরে সরিয়ে রাখবে।


৩. আজকের কথা ভাবুন আমরা তখনই আমাদের মধ্যে অলসতা ঢুকতে দি যখন কাজ কম করে ভাবি বেশি। আজকে কি করতে হবে না ভেবে আগে কি হয়েছিল বা পরে কি হবে এই করেই বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে দি। এই অভ্যেস ত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়। কাজ না করে আগের বা পরের কথা ভেবে লাভ হয় না সময় নষ্ট ছাড়া। আজকে কি করছেন তার ফল কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে সেটা ভেবে নিজেকে কাজে নিয়োজিত করে দেখুন। ফল পাবেন।


৪. সকালে উঠুন ভোরবেলা বিছানা ছড়ার জন্যে সবাই বলেন। কিন্তু আজকের বিনোদন মুখর জীবন সেই কাজ করতে নারাজ। এই অভ্যেস ত্যাগ করে রোজ সকালে উঠুন। সকালের শুরু যদি ভালো হয় সারা দিন কাজ করার আলাদা এনার্জি থাকে। সকালের বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বেশি থাকে দূষণ কম হওয়ার কারণে। সাথে রোজ সকালে স্বাস্থ্য চর্চা করুন। অল্প সময়ের জন্যে হলেও। যোগাভ্যাস করতে পারেন। রোজ সকালে উঠে একটা সারাদিনের কাজের লিষ্ট তৈরি করুন। এটা দরকার নেই যে লিষ্ট লম্বা এবং অনেক হতে হবে। শুধু ছোটো ছোট কাজ যখন সারাদিনে করে উঠবেন তাহলেই দিনের শেষে অলসতা কাটিয়ে উঠবেন। স্বপ্নের আবেশে বিভোর না হয়ে বাস্তবের মাটিতে পা রেখে কাজ করা ভালো।

৫. নিজের পছন্দ জানুন নিজে কি করতে ভালোবাসেন তা জানার চেষ্টা করুন । নিজে যা করতে ভালবাসেন তাতে মন দিন। সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যখন দেখেন নতুন কিছু আপনার হাত থেকে তৈরি হচ্ছে নিজের ভালো লাগবে। অবসর সময় যা অলসতা হওয়ার প্রধান সময়, তাকে যদি উদ্ভাবনী কোনো কাজে যুক্ত রাখেন তাহলে নিজেকে কখনোই অলস বলে মনে হবে না।


৬. প্রাধান্য দিন অনেক সময় হতে পারে যে কাল যে দূরদর্শিতা কথা ভেবে নিজের কাজ গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন, সময়ের সাথে হয়ত তার কোনো কাজের গুরুত্ব কমেছে যা পরে করলেও হবে। অনেক সময় আমরা সেসব না ভেবে শুরু করেছি বলে শেষ করার জন্যে উঠেপড়ে লাগি। ফলে ইচ্ছা ক্রমশ কমতে থাকে। তাই কিছুদিন অন্তর নিজের ঠিক করা কাজগুলোকে ভালো করে দেখুন এবং তার প্রাধান্য বিচার করুন। তাহলে কাজে মন বসবে এবং আলসেমি কাটিয়ে কাজ শেষ হবে।


৭. সবার সাথে মিশুন পরিবার হোক বা বন্ধু বান্ধব, সবার সাথে মিশতে চেষ্টা করুন। এতে মন ভালো থাকবে এবং অন্য কে দেখে নিজের কিছু করার ইচ্ছাও জাগবে। অন্যের সফলতা দেখে হিংসা না করে কিভাবে তার মতো বা তার থেকে বেশি সফল হওয়া যায় তার পরিমিত পরিকল্পনা করলে যেমন অলসতা থেকে বেরোনো যায় তেমনি সফল হওয়া যায়।