Foto

আরও দুটি আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরলো যুক্তরাষ্ট্র


মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) ইরান ও ফিলিস্তিনিদের করা অভিযোগের মধ্যেই আরও দুটি আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দেশটি ইরানের সঙ্গে ১৯৫৫ সালে স্বাক্ষরিত ‘মৈত্রী চুক্তি’ ও কূটনীতিক সম্পর্ক নিয়ে ১৯৬১ সালে স্বাক্ষরিত ভিয়েনা কনভেনশনের ‘ঐচ্ছিক বিধান’ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।


আন্তর্জাতিক এ চুক্তিগুলো থেকে সরে আসার পাশাপাশি আইসিজের কড়া সমালোচনাও করেছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বুধবার জাতিসংঘের এ সর্বোচ্চ ট্রাইব্যুনালকে রাজনীতিকরণের দায়ে অভিযুক্ত করে সংস্থাটিকে অকার্যকর অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

যেসব আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে এ আন্তর্জাতিক আদালতের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হয় সেগুলোও পর্যালোচনা করার ঘোষণা দেন সাবেক এ মার্কিন কূটনীতিক।

তেহরানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত ইরানের ওপর দেওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিলের রায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বোল্টনের এ প্রতিক্রিয়া মেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা যেন ইরানে মানবিক পণ্য রপ্তানি ও বেসামরিক বিমান নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহে প্রভাব না ফেলে তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয় আইসিজে।

মে মাস থেকে আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ১৯৫৫ সালে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত মৈত্রী চুক্তির লংঘন বলে অভিযোগ করেছিল ইরান।

আইসিজেতে ইরানের জয়ের পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লবেরও দুই যুগ আগে দুই দেশের মধ্যে ওই মৈত্রী চুক্তিটি হয়েছিল।

একের পর এক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের বেরিয়ে আসার নীতিতে মার্কিন মিত্ররাও বেশ উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার দুই বছরের মধ্যেই মার্কিনিরা প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও ইরান পরমাণু চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছে।

জাতিসংঘের সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো থেকেও নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে ওয়াশিংটন। নেটো মিত্ররা প্রতিরক্ষায় ব্যয় না বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র নিজের পথ দেখবে বলেও হুমকি দিয়ে রেখেছে।

ইরানের সঙ্গে ১৯৫৫ সালে স্বাক্ষরিত মৈত্রী চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েক দশক আগেই বেরিয়ে যাওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইসিজের রায় দেওয়ার অধিকার নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

সাড়ে ছয় দশক আগে স্বাক্ষরিত চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে্ ইরান।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বুধবার টুইটারে যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থাকে দস্যু শাসন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত জাতিসংঘের এ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আইনি বিরোধ মীমাংসার প্রধান বিচারিক প্রতিষ্ঠান।

আইসিজের রায় মানার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা কার্যকর করার কোনো ক্ষমতা আদালতের নেই। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এ আদালতের আদেশ আমলে নেয়নি।

ইরান এ ন্যায়বিচার আদালতের অপব্যবহার করল বলেও দাবি করেন বোল্টন। কূটনীতিক সম্পর্ক বিষয়ে ১৯৬১ সালে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত ভিয়েনা কনভেনশনের ঐচ্ছিক বিধান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার কথাও জানান এ নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনিদের আইসিজেতে অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিল।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কূটনীতিক সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভিয়েনা কনভেনশনের বিধান গুরুত্বপূর্ণ।

কনভেনশনের নিয়ম অনুসারে কোনো দেশ, অপর দেশের সে স্থানেই দূতাবাস স্থাপন করতে পারবে, যে স্থান নিয়ে অন্য কারও সঙ্গে বিরোধ নেই।

জেরুজালেমকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও শহরটির ওপর তেল আবিবের সার্বভৌমত্বে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশেরই আপত্তি আছে।

বিরোধ আছে এমন এলাকায় দূতাবাস স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র কনভেনশনের বিধান লংঘন করেছে বলে সেপ্টেম্বরে আইসিজেতে দেওয়া অভিযোগে বলেছিল ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

ঐচ্ছিক বিধান থেকে বেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো ভিয়েনা কনভেনশনের অন্যান্য বিষয় মেনে চলবে বলে জানান বোল্টন।

“জোর দিয়ে বলতে চাই, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের পক্ষে। কনভেনশনের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা সব পক্ষ মেনে চলবে বলেও আমাদের প্রত্যাশা,” বলেন এ মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।

Facebook Comments

" বিশ্ব সংবাদ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ