Foto

আবেদন করতে গিয়ে জানলেন, পাসপোর্ট হয়েছে আগেই


ব্যক্তির অজ্ঞাতসারেই বানানো হয়েছে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এবং তা ব্যবহার করছেন অন্যজন-এমন ঘটনা নিয়ে প্রতি মাসেই অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা। হাতে লেখা পাসপোর্টের সময়কালে বিভিন্ন তথ্য গোপন করে অনেকে পাসপোর্ট করে নেওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা তাদের।


চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভিসা ও পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেছেন, প্রতি মাসে তিন থেকে চারটি করে এ ধরনের সমস্যা তাদের কাছে আসে। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে কে আসল, কে নকল তা যাচাই-বাছাই করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন তারা।

সনজিত বড়ুয়া নামের একজন গত ৪ জুন চট্টগ্রামের মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে এমআরপির জন্য আবেদন করেন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন,তার নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরি হয়েছে বিদেশে।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নাম ও ঠিকানাসহ সব কিছু মিলে যায় ওই পাসপোর্টে।

পরে পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে প্রবাসে তৈরি করা পাসপোর্টটি যিনি করেছেন, তিনি আসল ব্যক্তি নন।

আরেক ভুক্তভোগী আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা রাজু দে এমআরপি পেতে ২০১৬ সালের ২ ‍জুন চট্টগ্রামের চান্দগাঁও আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করেছিলেন।

এতদিন হাতে লেখা পাসপোর্ট ব্যবহার করে এলেও নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পর তিনি জানতে পারেন, তার নামে এমআরপি পাসপোর্ট আগেই হয়ে আছে।

রাজু দে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি প্রথম হাতে লেখা পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। ১০ বছর মেয়াদি এ পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কথা ছিল এ বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি।

“কিন্তু হাতে লেখা পাসপোর্ট বন্ধ করে দেয়ায় ২০১৬ সালে এমআরপির জন্য আবেদন করি।তখন বলা হয়, আমার নামে আগেই এমআরপি হয়ে গেছে।”

হাতে লেখা ওই পাসপোর্ট নিয়েই ব্রুনাই সফর করে এসেছেন বলে জানান রাজু।

এ বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে পাসপোর্ট কর্মকর্তা জাকির হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সনজিতের ক্ষেত্রে আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন আসে, যে ব্যক্তি পরে পাসপোর্টের আবেদন করেছেন তিনিই আসল ব্যক্তি। বিদেশে যিনি পাসপোর্ট করেছেন তিনি আসল ব্যক্তি নন।

“এজন্য বিদেশে অবস্থান করা ব্যক্তির পাসপোর্ট বাতিলের জন্য আমরা চিঠি দিয়েছি।”

আর রাজু দের বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, চান্দগাঁওয়ে দায়িত্বরত উপ-পরিচালক শাহাদাত হোসেন বলেন, তার কাছেও এ ধরনের অভিযোগ আসে।

“অনেক সময় দুই ব্যক্তির নাম, ঠিকানা মিলে যাওয়ায় এ ধরনের ঘটনাগুলো ঘটে। তবে তা খুব কম।”

ভুক্তভোগীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এজন্য যথাযথ কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

পাসপোর্ট নিয়ে এই সমস্যার কারণ হিসেবে দুটি বিষয়ের কথা বলেন মোহাম্মদ জাকির হোসেন:“একটি কাকতাল; মা-বাবার নাম মিলে যাওয়ায়। অন্যটি ব্যক্তির জ্ঞাতসারে।”

দ্বিতীয় বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “হাতে লেখা পাসপোর্ট থাকাকালে বিদেশে অবস্থান করা কোনো ব্যক্তি দেশে চলে আসার পর অন্যের কাছে ভিসা বিক্রি করে দিতেন। ওই সময় এরকম ভিসা পেতে অনেকে নিজের নাম-পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট করে ফেলতেন।”

পাসপোর্ট কর্মকর্তারা বলেন, এ ধরনের পাসপোর্টগুলো মূলত বিদেশের দূতাবাস হয়ে থাকে। যারা তথ্য গোপন করে হাতে লেখা পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছিল তারা সে তথ্য দিয়ে দূতাবাস থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করে। আর সে তথ্য দিয়ে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট তৈরি করে।

উপ-পরিচালক জাকির বলেন, প্রথমে কিছুটা সমস্যা হলেও পরে বিষয়টি সমাধান করা যায়। তবে তা সময়সাপেক্ষ।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ