Foto

আবারো নিউইয়র্ক পুলিশের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিটেকটিভ জনি


বিশ্বের রাজধানী হিসাবে খ্যাত নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্যের সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মেরও আগ্রহ বাড়ছে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই বাহিনীতে যোগ দিতে। এ পর্যন্ত এনওয়াইপিডিতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যাদের মধ্যে উচ্চপদেও আসীন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য। সেরা এই বাহিনীতে ভাল কাজ করে প্রশংসাও কুড়াচ্ছেন অনেকে। পাচ্ছেন পুলিশ বিভাগের সম্মাননা।


সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনি। এ নিয়ে তিনি সাতবার সম্মাননা পেলেন। এশিয়ার ঐহিত্য উদযাপন অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেমস ওনিল জামিল সারোয়ার জনির হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এদিন বিকালে ম্যানহাটনের ওয়ান পুলিশ প্লাজার বিশাল অডিটরিয়ামে আরো ১৯ কর্মকর্তাকে সম্মাননা জানানো হয়।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসাসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

পিরোজপুর শহরের বিশিষ্ট আইনজীবী সারোয়ারুল ইসলাম এবং পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রেনু সারোয়ারের ছোট ছেলে জামিল সারোয়ার জনি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ২০১২ সালে তিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। ২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল তিনি ডিটেকটিভ হিসাবে পদোন্নতি লাভ করেন। ২০১৩ সালের ৪ জুলাই নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন জামিল সারোয়ার জনি। অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা পান তিনি।

জামিল সারোয়ার জনি বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর সাইবার ক্রাইম শাখায় কর্মরত রয়েছেন। গত বছর নিউইয়র্ক পুলিশের একটি দল রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সাইবার ক্রাইম বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। ওই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন জামিল সারোয়ার।

নিউইয়র্ক পুলিশে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্যদের মধ্যে অফিসার, ডিটেকটিভ, সার্জেন্ট, লেফটেন্যান্ট ও ক্যাপ্টেন পদমর্যাদায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা রয়েছেন। ট্রাফিক সুপারভাইজার ও ট্রাফিক ম্যানেজার পদেও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্য রয়েছেন। বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ইতিমধ্যে নিউইয়র্ক পুলিশের দাপ্তরিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাপার সভাপতি লেফটেন্যান্ট সুজাত খান এবং সাধারণ সম্পাদক সার্জেন্ট হুমায়ূন কবীর। বাপার কার্যক্রম এখন ব্যাপক বিস্তৃত এবং এ কারণে বাংলাদেশি সদস্যরা নিজ বাহিনীসহ প্রশাসনের সর্বত্র নজর কাড়তে সক্ষম হচ্ছেন।

Facebook Comments

" প্রতিবেশী " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ