Foto

আবারও সাংবাদিকতা করতে চান ওবায়দুল কাদের


আবারও সাংবাদিকতা করতে চান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘সাংবাদিক ছিলাম। আবারও আমি সাংবাদিকতার পেশায় আসতে চাই। আসবও হয়তো।’ আজ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া, বিএনপির নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, প্রশাসনের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।


একজন সাংবাদিক ওবায়দুল কাদেরের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, মাননীয় মন্ত্রী আপনি সাংবাদিকদের প্রিয় মুখ। আপনি নিজেও এক সময় সাংবাদিক ছিলেন। মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য এবং ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক। আপনি থাকতে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো একটি আইন কীভাবে পাস হলো?

এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি সাংবাদিক ছিলাম। আবারও আমি সাংবাদিকতার পেশায় আসতে চাই। আমাকে হয়তো এ পেশায় আসতে হতে পারে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সম্পাদক পরিষদ এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এ আইনটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের এ উদ্বেগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। তথ্যমন্ত্রী তাদের সবার সঙ্গে বসবেন। তা ছাড়া একটি আইন হলেই সেটাতে সব কিছুর বিস্তারিত বর্ণনা থাকে না। পরবর্তী সময়ে আইনটি প্রয়োগের জন্য আইনের আলোকে একটি বিধিমালা করা হয়। বিধিমালায় সব কিছু পরিষ্কার করা হয়। বিধিমালা হলেই সব বিভ্রান্তি দূর হবে বলেও আশা করেন তিনি।

ঐক্য প্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেখতে থাকুন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য কতজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়। আপনারা কি মনে করেন বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও ঐক্যপ্রক্রিয়া ও যুক্তফ্রন্টের নেতারা বসে থাকবে ? তারা কি নির্বাচনে আসবে না? আমরা খোঁজখবর রাখছি।

রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হচ্ছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা তো পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করছি না। আমরা কোনো পাল্টা কর্মসূচিও দিচ্ছি না। আমরা এখন অত্যন্ত নিরীহ কর্মসূচি দিচ্ছি। আপনারাই দেখুন আমরা লিফলেট বিতরণসহ গণসংযোগ ও মানুষের কাছে উন্নয়নের কথাগুলো বলছি।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে সরকারের ক্ষমতা ও কার্যক্রম সীমিত হয়ে আসে। সরকার চাইলেও কোনো সেতুরও উদ্বোধন করতে পারে না। এই যে আমরা পদ্মা সেতু করছি। আগামী অক্টোবরে এর কিছু কাজের উদ্বোধন করতে চাচ্ছি। কিন্তু তফসিল ঘোষণা হলে আমরা আর সেটা করতে পারব না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী যারাই আজ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলছে তারা মূলত এ দাবি করে বাড়তি কিছু আদায় করে নিতে চাইছে। রাজনীতিতে এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে তারা সবাই নির্বাচনে আসবে।

২০১৪ সালের মতো এবারও বিএনপি নির্বাচনে না আসলে এ নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কোনো মেজবানির আয়োজন নয় যে, আমরা বিএনপিকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে আসব। এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার। তারাই সিদ্ধান্ত নিবে এ অধিকার ভোগ করবে কি না। তা ছাড়া সামনে তফসিল ঘোষণার মাত্র এক মাস বা তার চেয়ে কিছু বেশি সময় বাকি আছে। এ সময়ে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনের জন্য নতুন কোনো পদ্ধতি বের করা সম্ভব নয়। সংবিধানে যেভাবে নির্বাচনের বর্ণনা দেওয়া আছে, সেভাবেই নির্বাচন হবে।

প্রশাসনে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। সবকিছুই শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। এ অবস্থায় প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। সব কিছুই স্বাভাবিক গতিতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলছে।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ