Foto

আবজাল দম্পতির দুর্নীতি: ১৮ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব


কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও নানা সরঞ্জামাদি ক্রয় ও সরবরাহের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের স্টেনোগ্রাফার আবজাল হোসেনের স্ত্রী রুবিনা খানমের বিরুদ্ধে। রুবিনার মালিকানাধীন রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে হাসপাতালের কেনাকাটায় সিন্ডিকেট করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের এ অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন ওই মেডিক্যালে কেনাকাটার নামে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সেখানকার ১৮ কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুদক। তাদের আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হওয়ার জন্য তাদের কাছে রোববার চিঠি পাঠানো হয়েছে।

রুবিনা খানম খানম ( ৩৯ ) পাঁচটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন প্রকল্পের (ফরিদপুর, কুমিলল্গা, খুলনা, দিনাজপুর ও বগুড়া) কার্যালয়ে স্টেনোগ্রাফার পদে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৯৮ সালে। ২০০০ সালে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরে যান। তিনি ২০০৫ সালের আগস্টে রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছিলেন।

এ সময় রুবিনার স্বামী স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার বরখাস্ত হওয়া হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা (কেরানী) মো. আবজাল হোসেনও কর্মরত ছিলেন। তিনি দাপটের সঙ্গে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তখন আবজাল প্রভাব খাটিয়ে রুবিনার কোম্পানির নামে কেনাকাটার কাজ বাগিয়ে নেন।

দুদক উপ পরিচালক সামছুল আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিশেষ টিম এ অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। টিমের অন্য দুই সদস্য হলেন- সহকারি পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী ও উপ সহকারি পরিচালক সহিদুর রহমান।

আবজাল ও রুবিনার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি আলাদা অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছিল। সেটি অনুসন্ধানের সময় কেনাকাটায় সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অভিযোগটি এখন আলাদাভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কেনাকাটায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পৃথক অভিযোগে আগামী ১ এপ্রিল ছয় জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তারা হলেন- কপবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, বর্তমানে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক ডা. মায়েনু, ডা. মো. ফরহাদ হোসেন, ডা. মোহাম্মদ আবদুল মাজেদ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন ও ডা. আবুল বরকত মুহাম্মদ আদনান।

আগামী ২ এপ্রিল আরও আট জনকে ডাকা হয়েছে। তারা হলেন- স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রশিদ, সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ নুরুল আলম, ডা. শহিদুল হক, প্রভাষক ডা. মো. আশরাফুল ইসলাম, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সুবাস চন্দ্র সাহা, সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহা. কামরুল হাসান, স্টোর কিপার মো. আবু জায়েদ ও হিসাবরক্ষক হুররমা আকতার খুকী।

আগামী ৪ এপ্রিল ডাকা হয়েছে জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী, জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সুকোমল বড়ূয়া, এসএএস সুপার আতিকুর রহমান ও নিরীক্ষক মিসেস নিলুফার ইয়াছমিনকে।

Facebook Comments

" জাতীয় খবর " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ