Foto

আন্দোলন দমাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র কিনলেও আগুন নেভানোর যন্ত্র সব সেকেলের: রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে দমন করার জন্য কত যে আধুনিক মারণাস্ত্র নিয়ে আসা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। নিয়ে আসা হয়েছে সর্বাধুনিক বিপজ্জনক টিয়ারশেল, স্মোক গ্রেনেড, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, গোলমরিচ-স্প্রেসহ নানা ধরনের আধুনিক অস্ত্র।


অথচ আগুন নেভানোর জন্য যা রয়েছে ’সবই সেকেলে ও মান্ধাতার আমলের। হেলিকপ্টারের সঙ্গে ঝোলানো বালতিতে হাতিরঝিল থেকে পানি নিয়ে বিল্ডিংয়ে আগুন নেভাতে গিয়ে সেই বালতির সব পানি ফুটো তলানি দিয়ে ঝরে গেছে। অথচ উন্নত দেশে আগুন নেভাতে ও মানুষ উদ্ধারে কত আধুনিক সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনা দেখতে পাওয়া যায়।’

তিনি মনে করেন, জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতিা না থাকার কারণেই মৃত্যুর মিছিল থামছে না।দেশে সুশাসন থাকলে এই অব্যবস্থাপনা চলতো না বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

আজ শনিবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হয়নি, উঁচু তলার ভবনগুলোর কোনো নির্গমন পথ নেই, ভবনগুলোতে অগ্নিপ্রতিরোধক ব্যবস্থা নেই। সেটা তদারকির দায়িত্ব সরকারের। শুধু লোভ ও লাভের জন্যই বেআইনিভাবে এই ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। আর এই কারণেই আন্তর্জাতিকভাবে রাজধানী ঢাকা বিশ্বে বসবাসের অযোগ্যের তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রায় ৫০ জনের মতো মানুষের তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে নানা দুর্ঘটনায়। আগুনের কাছে, বেপরোয়া গতিতে চলা যানবাহনের কাছে, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ ও বাসের কাছে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে। একটা জবাবদিহিবিহীন সরকার থাকার কারণেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আগুন নেভাতে ও মানুষ উদ্ধারে সরকার আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার কোনো লেটেস্ট ডিভাইস নেই। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীদের দ্রুত পৌঁছানোর জন্য কোনো উন্নতমানের বিকল্প ব্যবস্থা নেই। আগুন নেভাতে উন্নত ও স্বয়ংক্রিয় মই পর্যন্ত নেই।

’অথচ প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীদের মুখে উন্নয়নের মহাসড়কের বুলি শুনতে শুনতে সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ২২ তলা ভবনে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম নেই অথচ দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে বলে চাপাবাজি চলছে সপ্তকণ্ঠে তারস্বরে। আসলে দুর্নীতির মহাসড়কেই এই সরকার হাঁটছে বলেই সাধারণ মানুষের এতো লাশের স্তূপ।’

তিনি বলেন, একটি বেদনাঘন শোক কাটতে না কাটতেই আরেকটি গভীর শোক আমাদেরকে আচ্ছন্ন করছে। দেশবাসী যেন একটা বিশাল বিস্তৃত গোরস্থানের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিক মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই বনানীর এফআর টাওয়ারের আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ট্র্যাজেডি দেশবাসীকে শোকে বেদনায় নির্বাক করে দিয়েছে।

বিএনপি এ নেতা বলেন, এরা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সঠিক সংখ্যাটিও প্রকাশ করে না। এরা ক্ষমতার মোহে এতটাই পাগল যে, মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার কথা বেমালুম ভুলে যায়।

এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের প্রতি শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে হতাহতদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান বিএনপির এ নেতা।

তিনি বলেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য, মানুষ হত্যার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে ৩০ হাজার আধুনিক মারণঘাতি ১২ বোর শর্টগান। শর্টগানের জন্য ৩০ লাখ কার্তুজ আমদানি করা হয় হাজার কোটি টাকা শ্রাদ্ধ করে।

’স্বীকারোক্তি আদায় বা নির্যাতনের জন্য আনা হয়েছে ইলেকট্রিক চেয়ার ও ইলেকট্রিক শক দেয়ার অত্যাধুনিক ডিভাইস। বিরোধী দলের ফোনে আড়িপাতার জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত যন্ত্রপাতি নিয়ে আসা হয়েছে। গোপনে অডিও-ভিডিও করার উন্নতমানের ডিভাইস নিয়ে আসা হয়েছে। আইন শৃঙ্খলার বিভিন্ন বাহিনীকে হেলিকপ্টার দেয়া হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।’

বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, মানুষ হত্যার জন্য ব্যয়বহুল আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে কিন্তু মানুষ বাঁচানোর জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যে সরকার দাবি করে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠিয়ে মহাকাশ জয় করেছে, অথচ মানুষ বাঁচানোর জন্য সেই সরকারের কোনো আগ্রহ নেই। দেশের জনগণ মনে করে এই আগুনে পুড়ে মানুষগুলো মরার দায় শেখ হাসিনার সরকারের।

 

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ