Foto

আদালতে বসার জায়গা নিয়ে আপত্তি খালেদা জিয়ার


গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার শুনানিতে আদালতে বসার স্থান নিয়ে আপত্তি তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া। তার অভিযোগ, তাকে যেখানে বসানো হয়েছে, সেখান থেকে আদালতের কার্যক্রম দেখা যায় না। এ নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও বিচারকের কাছে আপত্তি জানান। পরে বিচারক জানান, পরবর্তী তারিখে তার বসার স্থানটি ঠিক করে দেওয়া হবে।


বৃহস্পতিবার গ্যাটকো দুর্নীতি মামলার চার্জ গঠনের শুনানিতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া এ অভিযোগ জানান। এদিন দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগার থেকে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে হাজির করা হয়। গাড়ি থেকে নামিয়ে হুইলচেয়ারে করে ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে এজলাস কক্ষে হাজির করা হয়। এদিন খালেদা জিয়াকে এজলাসের বাঁ দিকে পেশকারের পেছনের দেয়াল ঘেরা একটি জায়গায় বসানো হয়।

নির্ধারিত স্থানে খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হলে বসার স্থান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিচারকের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ’আমি এখান থেকে কিছুই দেখতে পারছি না। আমাকে এ রকম জায়গায় বসানো হলো কেন? এর আগে তো এই জায়গায় দেয়াল ছিল না। আমি তো এর আগে এখানে বসিনি। আর এখান থেকে তো কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এখানে আমি বসতে রাজি নই।’

এরপর আদালতে উপস্থিত খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও বিচারকের কাছে খালেদা জিয়াকে বসানোর স্থান নিয়ে আপত্তি জানান। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে এ সময় আদালতে ছিলেন এজে মোহাম্মদ আলী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও আমিনুল ইসলাম। তারা বলেন, এখানে বসানো মানে খালেদা জিয়াকে অপমান করার শামিল।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এ সময় বলেন, আদালত তো এভাবে নির্মিত। নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে ওই জায়গায় রাখা হয়েছে।

এরপর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন বলেন, ’আমি তো আজ নতুন। বিষয়টা আমি দেখব। আজকের মতো শুনানি করেন। শুনানির জন্য নির্ধারিত পরবর্তী তারিখে বসার স্থানটি ঠিক করে দেওয়া হবে।’

পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আসামিপক্ষ মামলার নথি চেয়ে আবেদন করলে বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন শুনানি পিছিয়ে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে এই মামলার দুই আসামির জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। দুই আসামি হলেন— ইসমাইল হোসেন সায়মন ও একেএম মোশাররফ হোসেন। এদিন চার্জ শুনানিতে মামলার জামিনে থাকা এ দুই আসামির হাজির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের আইনজীবীরা আদালতে জানান, অসুস্থতার কারণে তারা হাজির হতে পারেননি। তাই মামলার চার্জ গঠনের শুনানি পেছানোর জন্য আবেদন করেন তারা। তবে বিচারক সময় বাড়ানোর এই আবেদন নামঞ্জুর এবং তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার চার্জ শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন ৭ ফেব্রুয়ারি।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ২০০৮ সালের ১৩ মে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ জোট সরকারের ৯ মন্ত্রী, উপমন্ত্রীসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক জহিরুল হুদা চার্জশিট দেন।

পরোয়ানা জারি হবে কি-না, সেই আদেশ পিছিয়েছে: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হবে কি-না, সে বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার মামলাটি আদেশের জন্য ধার্য ছিল।

Facebook Comments

" আইন ও বিচার " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ