Foto

আগস্টে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে ।


গত আগস্ট মাসে মাসওয়ারি ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা আগের মাসের চেয়ে কিছুটা কম। গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এ তথ্য দেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির তথ্য হালনাগাদ করে থাকে।


মূল্যস্ফীতি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সমন্বয় ছিল, ভারসাম্যহীনতা ছিল না। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য আমদানি করা হয়েছে। আবার স্থানীয় বাজারেও পণ্যের সরবরাহ ছিল বেশ ভালো।

কোরবানি ঈদের প্রভাব পড়েনি কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ঈদে যেসব পণ্য কেনা হয়েছে, তা মূল্যস্ফীতি গণনায় খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে না বাড়লে মূল্যস্ফীতিতে সেভাবে প্রভাব পড়বে না।

বিবিএসের তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। আবার খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। আগস্ট মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ। জুলাই মাসে এই হার ছিল ৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। আগস্ট মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। আর জুলাই মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

বিবিএসের দেওয়া তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, গত মাসে চাল, মাছ, মাংস, ডিম, মসলা ও অন্য খাদ্যসামগ্রীর দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে আগস্ট মাসে দাম বেড়েছে পরিধেয় বস্ত্র, বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ ইত্যাদির।

বিবিএস বলছে, আগস্ট মাসে গ্রামের চেয়ে শহরের মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি ছিল। আগস্ট মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ, আর গ্রামে এ হার ছিল ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের ওপর জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে না—এমন তথ্য পাওয়া যায় বিবিএসের জাতীয় মজুরি সূচক থেকে। মানুষের আয় কতটা বাড়ল কিংবা কমল, তা জাতীয় মজুরি হার সূচক দিয়ে বোঝানো হয়। বিবিএস বলছে, ২০১০-১১ ভিত্তিবছর ধরে আগস্ট মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ যে হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হারে মজুরি বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম প্রমুখ।

Facebook Comments

" বিশ্ব অর্থনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ