Foto

আইন শুধু সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ !


‘পার্কিং নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ডের নিচেই পার্ক করে রাখা হয়েছে গাড়ি। রাজধানীর পান্থপথ এলাকার বসুন্ধরা সিটির উল্টো পাশের সড়ক। প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, রিকশাসহ অনেক যানবাহনের সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সও দাঁড়িয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সটির ভেতর থেকে হ্যান্ড মাইকে একজন বলছিলেন, ‘সামনের গাড়ি একটু বামে চাপুন, সাইট দিন; জরুরি, জরুরি।’ শুনেই বোঝা যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে মুমূর্ষু রোগী রয়েছে, যাকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু কে শোনে কার কথা? অবশ্য শুনেও কোনো লাভ নেই। কারণ কোথাও ফাঁকা নেই যে অ্যাম্বুলেন্সকে সামনে বা আশপাশ দিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে।


কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্স থেকে একজনকে রাস্তায় নামতে দেখা যায়। নেমেই তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, রাস্তার উপরে এইসব গাড়ি পার্কিং করে রাখছে। এইসব গাড়ির জন্যই তো এখানে এত জ্যাম। পুলিশও নাই, কেউই দেখার নাই। আমার রোগীটারে হাসপাতালে নিব কেমনে?

এরপর সেখানে উপস্থিত একজন বলে ওঠেন, বড় লোকদের গাড়ি ভাই। কার কী করার আছে?

এমন সময় আবদুস সামাদ নামের এক পথচারী বলেন, দ্যাখেন, পুলিশের সাইনবোর্ড পার্কিং নিষেধ। সাইনবোর্ডের নিচেই গাড়ি পার্ক করে রাখছে। 

দিনটি ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার। সময় দুপুর দুইটা। সাধারণত দুপুরের দিকে অনেক সড়কেই যানবাহনের চাপ কম থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবে কিছু কিছু সড়কে তেমন যানজট থাকে না। কিন্ত ওই দিন কারওয়ানবাজার সার্ক ফোয়ারা সংযোগ থেকে পান্থপথ সিগনাল পর্যন্ত ছিল তীব্র যানজট। মূল জট ছিল বসুন্ধরা সিটির উল্টো পাশের সড়কে ফার্নিচারের দোকানগুলোর সামনে।

এরপর দেখা গেল ওই সড়কে পার্কিং নিষেধ লেখা সংবলিত একাধিক সাইনবোর্ড রয়েছে। কিন্তু সেসব সাইনবোর্ডের তোয়াক্কা না করেই যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করে রেখেছেন চালকরা।

শুধু এই সড়কেই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন, সমাজসেবা অধিদফতর,পরিবেশ অধিদফতরসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অনেক ধরনের জনসচেতনতামূলক সাইনবোর্ড, বিল বোর্ড, ব্যানার টাঙিয়েছে। হর্ন বাজানো নিষেধ, গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করিবেন না, নীরব এলাকা ১০০ মিটার পর্যন্ত হর্ন ও মাইক বাজানো দণ্ডনীয় অপরাধ, ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষিত এলাকা, ভিক্ষাবৃত্তিতে শিশু ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় লেখা রয়েছে এগুলোতে।

সাইনবোর্ডের এসব ঘোষণা মানতে চান না অনেকেই। যদিও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এসব অভিযানে প্রতিনিয়তই রাজধানীতে শত শত যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ভঙ্গের শাস্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ তেমন নেই বললে চলে। ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রাজধানীবাসী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন না মানার প্রবণতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বেশি।

বেজেই চলেছে হাইড্রোলিক হর্ন

রাজধানীর আবাসিক ও ভিআইপি এলাকায় যানবাহনের হর্ন বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে একটি আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, হাসপাতালের পাশ দিয়ে চলার সময় হর্ন বাজানোও নিষিদ্ধ করেছে উচ্চ আদালত। সেই আদেশে দেশে হাইড্রোলিক হর্নের উৎপাদন বন্ধেরও নির্দেশনা এসেছে। কিন্তু দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশের পরও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়নি যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন। ফলে হর্নে সৃষ্ট শব্দদূষণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন অনেকেই।

ট্রাফিক পুলিশ নিষিদ্ধ এলাকায় হর্ন বাজানোর দায়ে ও হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। চালক ও জনগণকে সচেতন করতে অনেক আগে থেকেই ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে যেসব এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ, সেসব এলাকায় সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। কিন্তু অনেক চালকই সেই সাইনবোর্ডের দিকে তাকান না; এমনকি হর্ন না বাজানো সম্পর্কে কিছু জানেনও না। ফলে স্কুল–কলেজ ও অন্যান্য এলাকায় তারা নিজেদের মতোই হর্ন বাজিয়ে চলছেন।

নীরব এলাকা চেনেন না চালকরা

বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ক্ষমতাবলে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই বিধিমালার আওতায় নীরব, আবাসিক, মিশ্র, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা চিহ্নিত করে শব্দের মাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

২০০৬ সালের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইনের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী, নীরব এলাকায় ভোর ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দিনে ৫০ এবং রাতে ৪০ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ এবং রাতে ৪৫ ডেসিবল, মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০ ও রাতে ৫০ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ও রাতে ৬০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ও রাতে ৭০ ডেসিবলের মধ্যে শব্দের মাত্রা থাকা বাঞ্ছনীয় বলে জানানো হয়েছে।

ওই আইন অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকার নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদফতর, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি হাতে নেয়। আর এতে সহযোগিতা করেছিল ঢাকা সিটি করপোরেশন। এই উদ্যোগের পরই ঢাকার বিভিন্ন সড়কগুলোতে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে সড়কের পাশে ও রোড ডিভাইডারের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় সাইনবোর্ড টাঙিয়েছিল তারা।

সেই সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, নীরব এলাকা! হাসপাতাল থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত হর্ন ও মাইক ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। রাজধানীর আগারগাঁও, শ্যামলী, ধানমন্ডি ও মিরপুর এলাকা ঘুরে এমন অনেক সাইনবোর্ড চোখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের সামনেই তীব্র আওয়াজে হর্ন বাজিয়ে চলেছেন গাড়ির চালকরা। সেখানে যে হর্ন বাজানো অপরাধ, তা জানেন না অনেক চালক।

পঙ্গু হাসপাতালের সামনে একটি প্রাইভেট কারের চালকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। আলামিন মিয়া নামের ওই চালক প্রিয়.কমকে বলেন, হর্ন না বাজালে এখানে গাড়ি চালাব কেমনে? আর এইসব ছোট ছোট সাইনবোর্ড কোনোদিন চোখে পড়ে নাই।

এমন কথা জানালেন ওই সড়কে চলাচলকারী এক লেগুনাচালকও। মো. সুমন নামের ওই লেগুনাচালক জানান, তারা বেতার ভবনের সামনের এই মোড়ে লেগুনা পার্ক করে রাখেন। অন্য গাড়ি এলে বা সাইট দিতে হলে তাদের হর্ন বাজাতেই হয়। পুলিশ অনেকবার তার গাড়ির কাগজ ঠিক না থাকায় মামলা দিয়েছে। কিন্তু এখানে হর্ন বাজানোর কারণে কোনোদিন  মামলা দেয়নি। সে কারণে এটা জানা ছিল না। 

নামেই ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষিত এলাকা 

২০১৬ সালের ২৭ মে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করে প্রচারণায় নামে সমাজসেবা অধিদফতর। এলাকাগুলো হলো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিমানবন্দর, হোটেল রেডিসন, কূটনৈতিক জোন, দূতাবাস এলাকা এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হোটেল সোনারগাঁও, বেইলি রোড এলাকা। মাইকিং করেও প্রচারণা চালায় সমাজসেবা অধিদফতর।

ওই প্রচারণায় বলা হয়, ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষিত এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। সে সময় ওই এলাকায় কাউকে ভিক্ষারত অবস্থায় পাওয়া গেলে তাকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা তেমন একটা কাজে আসেনি।

সমাজসেবা অধিদফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুয়ায়ী, মূলত ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছিল ২০১০ সালে। ওই বছরের আগস্ট মাস থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীকে পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।

ঢাকা মহানগরের ১০টি জোনে ১০টি এনজিওর মাধ্যমে ২০১১ সালে ১০ হাজার ভিক্ষুকের ওপর একটি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সেই জরিপে প্রাপ্ত ভিক্ষুকদের নিজ নিজ জেলায় পুনর্বাসনের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

সেই কর্মসূচির পাইলট পর্যায়ে পুনর্বাসন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ঢাকা শহরের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে সফলতা অর্জন ব্যতীত কর্মসূচির সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। বিষয়টি মাথায় রেখে প্রাথমিকভাবে ঢাকা শহরের বিমানবন্দর এলাকা, হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল রেডিসন, বেইলি রোড, কূটনৈতিক জোন ও দূতাবাস এলাকাগুলোকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে এসব এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এরপর ২০১৬-২০১৭ সালে বিমানবন্দর সড়ক থেকে শাহবাগ পর্যন্ত ভিআইপি সড়কসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে আরও বেশ কিছু এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

এইসব এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষিত এলাকা লেখা সাইনবোর্ডের পাশেই ভিক্ষুকরা ভিক্ষা করছেন। আর এতেই এর সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

সমাজসেবা অধিদফতরের দেওয়া এসব সাইনবোর্ড ও আইন অনুযায়ী শিশু কোলে নিয়ে ভিক্ষা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ নেই। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অনেক নারী শিশুকে কোলে নিয়ে নানা অজুহাতে ভিক্ষাবৃত্তি করে চলেছেন।

রাজধানীর মিরপুর শপিং কমপ্লেক্সের সামনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত  শিশু কোলে নিয়ে ভিক্ষা করেন আশা বেগম। তার কোলের শিশুটির বয়স মাত্র আড়াই মাস।

এত ছোট শিশুকে নিয়ে ভিক্ষা করার কারণ জানতে চাইলে আশা বেগম জানান, তার স্বামী রিকশা চালাত। কয়েক মাস আগে একটি দুর্ঘটনায় তিনি আহত হয়ে এখন বিছানায়। সংসারের খরচ ও দুই সন্তানের মুখের খাবার জোগাতে তাই ভিক্ষা করছেন তিনি। 

আইনের কঠোর প্রয়োগে জোর

নিয়ম ব্যত্যয়ের এসব বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল প্রিয়.কমকে বলেন, অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং আসলে অনেক বড় একটি সমস্যা। আমাদের প্রশাসন এই বিষয়ে অনেকবার ব্যবস্থা নিয়েও পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। কারণ আমাদের প্রাইভেট পরিবহনের মালিকরা অনেক প্রভাবশালী থাকেন। এ জন্য সকলের সচেতনতা যেমন প্রয়োজন, আমাদের আইনের কঠোরতাও তেমন প্রয়োজন। প্রশাসন সড়ককে যানজটমুক্ত করতে আশা করি এই পদক্ষেপটি নিবে যে, রাস্তায় কোনো যানবাহনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেবে না। রাস্তায় পার্কিংয়ের কোনো সুযোগ দেবে না।

এটা উল্লেখ্যযোগ্য যে, আমাদের ঢাকার অনেক ভবন তৈরি করার সময়ে পরিকল্পিতভাবে পার্কিং ব্যবস্থা থাকে না। এসব ভবনের সামনে লেখা থাকে অতিথিদের গাড়ি বাইরে রাখুন। অর্থাৎ পার্কিং করা যাবে না। ফলে বাধ্য হয়েই গাড়ি বাইরে রাখতে হয়। এ ক্ষেত্রে রাজউক এবং অনান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবন অনুমোদন দেওয়ার সময় বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

শাকিল আরও বলেন, আমাদের পুলিশ যথেষ্টভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমাদের পরিবহন মালিকদেরও এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে, তাদের কারণে যেন সড়কে কোনো ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়। মূলত সবাই সচেতন হলেই এই ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা বা সমস্যাগুলো কমে আসবে।             

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য 

শব্দদূষণের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার প্রিয়.কমকে বলেন, হাইড্রোলিক হর্নের কারণে মানুষের কানের ক্ষতি হয়। এ রকম হর্নের কারণে ৮৫ ডেসিবল কম্পাঙ্কের শব্দ উৎপন্ন হয়, যা কানের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এ কারণে বধির হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সড়ক পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে পথচারীরা। শুধু হাইড্রোলিক হর্ন নয়; মাইক, টিভি, সিডির শব্দও কানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ জন্য সরকারের উচিত এ বিষয়ে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করা।

এ বিষয়ে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ প্রিয়.কমকে বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন এখনো কিছু জায়গায় শোনা যায়। এতে করে অনেকেরই কানের সমস্যা হচ্ছে। আদালতের আদেশ মানা হচ্ছে, তবে সেভাবে নয়। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ যদি এ বিষয়ে কঠোর হয়, তাহলে সম্পূর্ণভাবে এটি বন্ধ হয়‌ে যাব‌ে । এ জন্য পুলিশ প্রশাসনকে সচেষ্ট হওয়া দরকার।

পুলিশের ভাষ্য

এই বিষয়ে জানতে ট্রাফিক পূর্ব বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ড. কামরুজ্জামান প্রিয়.কমকে বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। অভিযানের সময় সামনে হাইড্রোলিক হর্ন পেলে সেটি জব্দ করি। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আমাদের কাছে অনেকগুলো হর্ন জমাও পড়েছে। হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) ওবায়দুর রহমান বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিতই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর দিনভর ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করে ৩১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায়সহ ৫ হাজার ১১৭টি মামলা করা হয়েছে।

ওবায়দুর রহমান জানান, এসব অভিযান পরিচালনা করে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের কারণে এক হাজার ৮৩১টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। আটক করা হয়েছে ১০৮টি মোটরসাইকেল। হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ৯২টি গাড়ি, হুটার বা বিকনলাইট ব্যবহারের জন্য চারটি, পুলিশ স্টিকার লাগানোর জন্য দুটি, মাইক্রোবাসে কালো গ্লাস লাগানোর জন্য ২৩টি গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল বা এয়ারফোন ব্যবহার করার জন্য ২৫ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি ভিডিও দেখে মামলা ও ২৪ টি সরাসরি মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, উল্টো পথে গাড়ি চালানোর দায়ে ৩৭৯টি গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় অবৈধ গাড়ি পার্কিং, ফিটনেস না থাকার দায়ে ডাম্পিং করা হয়েছে ৪২টি গাড়ি। আর রেকার করা হয়েছে ৮৯৩টি গাড়ি।

এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান ওবায়দুর।

Facebook Comments

" প্রতিবেশী " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ