Foto

অভিনেত্রী নয়, প্রযোজক হিসেবেও আমি সন্তুষ্ট: জয়া


দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। যদিও এখন কলকাতার ছবিতে অভিনয় নিয়েই বেশি ব্যস্ততা তার। গত বছর বাংলাদেশে মুক্তি পায় তার অভিনীত ও প্রথম প্রযোজিত ছবি ‘দেবী’ । প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে ছবিটি নির্মিত হওয়ায় ছবিটি নিয়ে আগ্রহ ছিলো সব শ্রেণীর দর্শকদের। মুক্তির পর পেয়েছে ব্যবাসায়িক সাফল্যও। টানা একশ’ দিন ধরে ছবিটি চলছে সিনেপ্লেক্সে।


আপনার প্রথম প্রযোজিত ’দেবী’ চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহে টানা ১০০তম দিন পূর্ণ করলো। অর্জনটা কীভাবে দেখছেন?
আমি মনে করি, এ ক্ষেত্রে আরেকবার প্রমাণিত হলো, নির্মাতা ও দর্শকের মেলবন্ধন যদি সুদৃঢ় হয় একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য আসবেই। সরকারী অনুদানে নির্মিত কোনো চলচ্চিত্র এর আগে বছরের সেরা ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় হয়েছে কিংবা দেশের বাইরে রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করেছে অথবা শত তম দিন পূর্ণ করেছে-এমনটি শোনা যায়নি।


ছবির এমন সাফল্যের পিছনে অবদান সবচেযে বেশি কার বলে আপনি মনে করেন?
এই অর্জন অবশ্য প্রযোজক হিসেবে একার আমার অথবা নির্মাতা অনম বিশ্বাসের নয়, ছবির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষই এই সাফল্যের দাবীদার। এই অর্জন চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির প্রতিটি মানুষের। ধন্যবাদ দর্শক, প্রদর্শক, হল মালিক, সাংবাদিক ভাই বোনেরা, আমাদের শিল্পী-কলাকুশলী, সি তে সিনেমার পুরো দল, বিজ্ঞাপনদাতা, পরিবেশক সহ সবাইকে। ধন্যবাদ শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন আহমেদ স্যার ও তার পরিবারকে।


নানা জটিলতার কারণে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের প্রযোজকদেরও লাভবান না হওয়ার খবর আসে। এ ক্ষেত্রে দেবীর প্রযোজক হিসেবে আপনার অবস্থান কী?
এটা ঠিক, মাল্টিপ্লেক্সের হিসাব বাদ দিলে বাংলাদেশে একক প্রেক্ষাগৃহ থেকে আয়ের হিসাব বেশ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। তবে একজন প্রযোজক হিসেবে আমি বেশ সন্তুষ্ট। শুরু থেকেই চলচ্চিত্র ব্যবসায় কোন ক্ষেত্রগুলোতে ফাঁক ফোকড় রয়েছে, সেসব সম্পর্কে অবগত ছিলাম বলেই হিসাব কষে প্রতিটি পদক্ষেপে পা ফেলেছি। এ ক্ষেত্রে পরিবেশক জাজ মাল্টিমিডিয়ার অকৃত্রিম সহযোগিতার কথাও বলতে হয়। তাদের সহযোগিতা এবং আমাদের টীমের সঠিক রোডম্যাপ-ই আমাদের চূড়ান্ত সাফল্য এনে দিয়েছে বলে আমার বিশ্বাস।


আজ প্রেক্ষাগৃহে দেবী’র শততম দিন পূর্ণ হচ্ছে। এ দিনটি ঘিরে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
বাংলাদেশের প্রথম মাল্টিপ্লেক্স থিয়েটার স্টার সিনেপ্লেক্সের নতুন শাখার উদ্বোধন হয়েছে ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভারে। আজ থেকে সেখানে চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু হচ্ছে। আমরা ভাগ্যবান, একমাত্র বাংলা চলচ্চিত্র হিসেবে আজ থেকে সেখানে ’দেবী’ প্রদর্শন হবে। তাছাড়া স্টার সিনেপ্লেক্সের বসুন্ধরা সিটি শাখা, যমুনা ব্লকবাস্টার ও চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিন-সব মিলিয়ে প্রতি দিন ১১টি শো প্রদর্শিত হবে এ সপ্তাহে। তাছাড়া আজ যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোতে লা পালোমা থিয়েটারে ’দেবী’ প্রদর্শিত হবে।


আপনার প্রযোজিত দ্বিতীয় ছবি ’ফুড়–ৎ’।ছবিটি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই?
এখন পর্যন্ত বিস্তারিত জানাবার মত পরিস্থিতি আসেনি। শিল্পী নির্বাচন ও অন্যান্য প্রি-প্রডাক্সনের কাজ চলছে। খুব শিগগীরই হয়তো ’ফুড়–ৎ’ নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারবো। তবে আপাতত আমার অভিনয়ের খবর দেই। আসছে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অতনু ঘোষের নতুন ছবি ’বিনি সুতোয়’ কাজ করতে কলকাতা যাচ্ছি। ’বিজয়া’ এখনো চলছে ভারতে। আর বাংলাদেশে চলতি বছর ’পেয়ারার সুবাস’ ও ’বিউটি সার্কাস’ ছবি দুটি মুক্তি পেতে পারে। বাকীটা প্রযোজকরা নিশ্চিত করে বলতে পারেন।

Facebook Comments

" বিনোদন " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ