Foto

‘অন্যরা কূটনীতিকদের নেয় বড় হোটেলে, আ. লীগের ক্ষেত্রে তারা আসে অফিসে’


আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর এইচ টি ইমাম বলেছেন, বাংলাদেশের অন্যান্য দল কূটনীতিকদের জন্য বড় বড় হোটেলে নৈশভোজের আয়োজন করে, সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে তারা এখানে আসেন। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও ঢাকায় নিয়োজিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে হোটেল লেক শোরে বৈঠক করেছেন বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।


তার কয়েক দিনের মধ্যেই বুধবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে কথা বললেন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর বিল মোলার। দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা কাজী রুম্মন দস্তগীরও তার সঙ্গে ছিলেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে বৈঠকের পর দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ইমাম বলেন, “এটাই প্রথম নয়, কিছু দিন আগে ব্রিটিশ হাই কমিশনার এলিসন ব্লেক এসেছিলেন। প্রায়ই অনেকে আওয়ামী লীগ অফিসে এসে দেখা করেন।”

সব রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেই ব্যক্তিগত পর্যায়ে কথাবার্তা ও আলোচনা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “সেগুলো সব সময় প্রচার করার দরকার আমরা মনে করি না। পার্থক্যটা হল, অন্যান্য দলগুলো তারা বড় বড় হোটেলে তাদের জন্য ডিনারের ব্যবস্থা করেন, তারা দাওয়াত করেন তারা বাড়িতে যান, দেখা করতে যান।

“আর আওয়ামী লীগের উচ্চতা এতোখানি গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ব্যাপারে, আমাদের যে যাই সমালোচনা করুক, তারা সকলেই বলছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটা অন্য স্ট্যান্ডার্ড আছে। সেই স্ট্যান্ডার্ডের জন্য, এই উচ্চতার মানের জন্যই তারা এখানে আসেন।”

এইচ টি ইমাম বলেন, “আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রত্যেকটি দূতাবাসের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখি এবং গণতন্ত্রের পক্ষে যারা এখানে কাজ করেন নৈতিক একটা উচ্চতা থেকে সবার সাথে কথা বলি।”

বৈঠকে নির্বাচনসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, “সব থেকে আনন্দের কথা এই যে, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যে সমস্ত কথা বলেন, আমরা চাই একটি অংশীদারিত্বমূলক নির্বাচন, যেখানে সকলে অংশগ্রহণ করুক। একটি সুষ্ঠু ও অবাধ এবং অত্যন্ত ষ্পষ্ট একটি নির্বাচন, যেটি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

“এই আদর্শগুলো আমেরিকানরাও ধারণ করে। তাদের সঙ্গে আমাদের মতের যথেষ্ট মিল আছে। এইজন্যই তারা আমাদের এখানে এসেছেন।”

নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক পর্যবেক্ষক আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তাদেরকে বলেছি, অবজারভার যেখানে যাবেন, তাদের নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের দায়িত্ব। কাজেই আপনারা তালিকা দিয়েন। আগে থেকেই জানাবে কোথায় তারা যাবেন কী কী কাজ করবেন, এগুলো জানা দরকার।”
এর আগে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষক পাঠালেও এবার তারা পাঠাচ্ছে না।

সেখানে আমেরিকা কেন পর্যবেক্ষক পাঠাবে-সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, “ওরা সব জায়গাতেই পাঠায়। ওরা বলছে, আমরা নির্বাচন কেমন হয় দেখব? সত্যিকার সুষ্ঠ হয় কি না। ওদের তো কতগুলো থিঙ্ক ট্যাংক আছে। আমেরিকা আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক নয়।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচন হয়। এ রকম নির্বাচন কিন্তু অনেক দেশেই হয় না। এটা আমাদের গর্ব করার জিনিস। এই জন্যই ওরা আসে।”

আমেরিকানরা সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধুত্ব চান জানিয়ে ইমাম বলেন, “তারা আরও সম্পর্ক গভীরতর করতে চান। আমাদের সরকার আরও ভালোভাবে শক্তিশালী হোক। এখানে তারা আরও বিনিয়োগ করবেন, এমন অনেক কিছু ব্যাপার আছে।”

তিনি বলেন, “আমি কথায় কথায় বলেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকার জনগণ আমাদের দ্বিগুণভাবে সমর্থন করেছে যদিও সরকার তখন আমাদের বিরোধী ছিল। তখন উনি (মোলার) সঙ্গে সঙ্গে মনে করিয়ে দিলেন, আমেরিকা আবার ভুল বুঝতে পেরে ৪ এপ্রিল স্বাধীনতার পর পরেই অনেক দেশের আগে আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছিল।”

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা কোনো অসন্তোষের কথা বলেছেন কি না জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, “ওরা এ সমস্ত কথা বলেন নাই। তারা বলছেন, এখন বাংলাদেশে শান্তির ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে। ওদের এনডিআই-এর আগে অক্টোবর মাসে এসেছিলেন, এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, তখন তারা বলে গিয়েছিলেন, বাংলাদেশে একটি সংলাপ হওয়া দরকার। এটা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্যান্যরাও বলেছিলেন।

“এজন্য তারা বলেছেন, আমরা অত্যন্ত খুশি। তোমরা সংলাপ করেছ। এই ডায়ালগে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সকলকে যেভাবে নিয়ে এসেছে। ওদের যা কিছু বলার ছিল তারা কিন্তু প্রকাশ্যেই বলে ফেলেছেন। সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ক্ষোভের জায়গাগুলো তারা বলেছেন এবং সরকার হাসিমুখে নিয়েছে। আমরা যা যা করার দরকার ছিল, যে প্রতিশ্রুতি জননেত্রী শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন সে প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা সব পালন করছি। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার সম্পন্ন চেষ্টা করছি সর্বাত্মকভাবে।

“কিন্তু সব কিছুর উপরে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনকে সমস্ত আলোচনা-সমালোচনার উর্ধ্বে রেখে করতে হবে। তাহলেই সুষ্ঠ নির্বাচন হবে।”

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর আমলে প্রণীত আরপিওর ওপর ভিত্তি করে এখন পর্যন্ত নির্বাচন হওয়ার কথা জানিয়ে সাবেক এই আমলা বলেন, “সে আরওপিওতে যত রকমের সংশোধনী এসেছে, যত কিছু নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা, তাদের আদর্শ একটা ইমেজ দেওয়া এবং নির্বাচন পদ্ধতিতে যত কিছু সংস্কার, তার সবই একমাত্র আওয়ামী লীগ করেছে। এটি আর কেউই করে নাই।

“তাই আসুন আমরা সকলে মিলে নির্বাচন কমিশনকে এমন একটা উচ্চতায় নিয়ে যাই, কেউ যেন প্রশ্ন করতে না পারে। তখন বলবে যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই করে দেখিয়েছে, এটা করতে পারা সম্ভব।”

নির্বাচনে সব দল অংশ নিচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা তাদের সন্তোষের কথা প্রকাশ করেছেন বলে জানান এইচ টি ইমাম।

সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আন্তর্জাতিক উপ-কমিটির সদস্য সেলিম মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments

" রাজনীতি " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ