Foto

অধিনায়ক মাশরাফির জয়ের হার ৫০ শতাংশ


অধিনায়ক মাশরাফির জয়ের হার ৫০ শতাংশ, বিপিএলে মেনে নেওয়া কঠিনই। চার ম্যাচের দুটি হেরেছে মাশরাফির দল রংপুর রাইডার্স। মাত্রই টুর্নামেন্টের শুরু, এখনই কোনো রায় দেওয়া বোকামি। তবে বিপিএলের শুরুটা ভালো হলো না বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। মাশরাফিকে তাই সংবাদ সম্মেলনের প্রায় পুরোটাই কাটাতে হয়েছে হারের কারণ অনুসন্ধান করে।


টার্নিং পয়েন্টগুলো কী ছিল?

আমার মনে হয় রুশোর আউটটা। পরপর দুই সেট ব্যাটসম্যান আউট হয়ে যাওয়া। রুশোর পর মিঠুন। আমার কাছে মনে হয় যে রানটা এত হওয়ার কথা না ওদের। আমরা অনেক বাজে ফিল্ডিং করছি। নইলে হয়তোবা আরও ক্লোজ হইত। বিপিএলে মনে হয় আজকেই সেরা ম্যাচটা হয়েছে। উইকেট যে রকম ছিল এ রকম থাকলে আরও অনেক ম্যাচ দেখা যাবে এমন। আজকে উইকেটটাও অনেক ভালো ছিল সত্যি কথা।

দল কি আলিস আল ইসলামের চমক সামলাতে পারেনি?

আমরা তো শেষ পর্যন্ত ঠিক পথেই ছিলাম। শেষ মুহূর্তে গিয়ে আমাদের ভুলের কারণে ম্যাচটা হেরেছি, কিন্তু কৃতিত্ব অবশ্যই তার। কারণ, সে ওই সময় নার্ভটা ধরে রেখেছিল, দলের চাওয়া পূরণ করতে পেরেছিল। আমাদের দলের স্থানীয় খেলোয়াড়দের দু-একজন ওর সম্পর্কে আগে থেকেই জানত। তবে বিদেশি ক্রিকেটারদের না জানারই কথা।

আজকের ম্যাচটার মতো বাকিগুলো কেন হলো না?

উইকেট ভালো হলে এমন ম্যাচ হবে, সেটা আশা করাই যায়। আর এমনিও টুর্নামেন্টের শুরুতে এমনটা হয়, আমরা তো দীর্ঘ দিন অনুশীলনের সুযোগ পাই না একসঙ্গে। তাই দল হয়ে উঠতে একটু সময় লাগে। আর এমন ম্যাচ হতেও সময় লাগে। এখন টুর্নামেন্ট মাত্রই শুরুর দিকে। আমরা চারটা ম্যাচ খেলে ফেলেছি। অন্য দল এখনো এতগুলো ম্যাচ খেলেওনি। আমি মনে করি, উইকেট এমন হলে আরও ভালো কিছু ম্যাচ দেখা যাবে।

স্নায়ুর লড়াইয়ে হার?

আমাদের জন্য সহজই ছিল ম্যাচটা। আমাদের সেট ব্যাটসম্যান ছিল উইকেটে। আমাদের জন্য চাপ ছিল শুরুর দিকে, ব্যাটিংয়ের শুরুতে যখন গেইল আউট হয়ে যায়। এরপর মারুফও যখন আউট হয়ে গেল। শুরু থেকে চাপ ছিল। কিন্তু সেই চাপ সামলে যখন শেষ পর্যায়ে এল, তখন চাপ আরও বেড়ে গিয়েছিল। ওদের বোলারটা (আল ইসলাম) ভালো লড়াই করেছে, শেষ পর্যন্ত সে-ই জিতেছে।

আন্দ্রে রাসেল আর পোলার্ডের ক্যাচ

ক্যাচটা অসাধারণ ছিল। দলের সম্ভাব্য দুই সেরা ফিল্ডারই জায়গামতো ছিল। দুজনই এ ধরনের ক্যাচের জন্য যোগ্য। অনেক টুর্নামেন্ট, আন্তর্জাতিক ম্যাচেও দেখেছি ওদের ক্যাচ ধরা। সেদিক দিয়ে এটা চমক হয়ে আসেনি। অবশ্যই, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এমন ক্যাচ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

সাকিব বনাম মাশরাফির লড়াই

না, আমরা তো সবাই একই দলের খেলোয়াড়। এ ধরনের টুর্নামেন্টে সব দেশেই সতীর্থেরা আলাদা আলাদা দলের হয়ে খেলে। এমনও না যে এখানে প্রথমবার একে অন্যের বিপক্ষে খেলেছি। এখানে আলাদা কিছু নাই। সবাই চায় সবার দলকে জেতাতে।

ঢাকা অন্যদের চেয়ে বেশি এগিয়ে কি না?

হ্যাঁ, অবশ্যই। আপনি যদি ঢাকা-কুমিল্লার স্কোয়াড দেখেন, তারা অনেক ভারসাম্যপূর্ণ। টপ অর্ডারে প্রথম ৬ ওভারে ব্যবহার করার মতো খেলোয়াড় আছে। মাঝখানে সাকিব আছে, রনিও ভালো খেলছে। প্রথম ছয়জন অনেক ভালো খেলছে। কুমিল্লাও ভালো। আমরাও খারাপ করছি না। আমরা যদিও ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। দুইটা ম্যাচেই খুব কাছে গিয়ে হেরেছি। শুরুর দিকে এভাবে লড়াই করে যাওয়াটা খারাপ না। কারণ, দলের দুর্বলতাগুলো আগেই ধরে ফেলা যায়। তবে, এক-দুইয়ে থেকে পরের রাউন্ডে যেতে চাইলে এ ধরনের ম্যাচগুলো জেতা উচিত।

Facebook Comments

" ক্রিকেট নিউজ " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ