Foto

অতিরিক্ত চিন্তা করার কারণে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন? ধ্যানে মিলবে সমাধান


সেই প্রাচীনকাল থেকে আমাদের জীবনে ধ্যান এর গুরুত্ব অপরিসীম। আগেকার দিনে তাই মুনি-ঋষিরা সব সময় নিজেদের শরীর এবং মনকে ভালো রাখার জন্য ধ্যান করতেন। আমাদের শরীরের উপর এই মহাবিশ্বের প্রভাব যে কতটা এবং গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান এর উপর নির্ভর করে আমাদের শরীর এবং মন কতটা প্রভাবিত হয় তা প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন বইতে বলা হয়েছে।আর ঠিক সেই কারণেই অবস্থানের সাথে সাথে আমাদের শরীরের যাতে ছন্দপতন না হয় তার জন্য ধ্যান করা অবশ্যই দরকার। এর পাশাপাশি ভ্যান মনোযোগ এবং একাগ্রতা বাড়ানোর কাজে লাগে। প্রতিদিনের রুটিনে যদি একটু করেও ধ্যান করা হয় তাহলে তা আমাদের মনোযোগ এবং একাগ্রতা অনেকটাই বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।


এর পাশাপাশি অনেক সময় হয়ে থাকে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমরা বিভিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হই। অনেক সময় সেই ঘটনা আমাদের উপর বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করে। বিশেষত আমাদের মনের উপর এর ব্যপ্তি বেশি ঘটে। আর মন যেহেতু আমাদের চালনা শক্তি তাই বিভিন্ন ঘটনার প্রভাবে আমাদের মন সবসময় ক্ষতিগ্রস্থ বা বাধাপ্রাপ্ত হয়।আমাদের বাড়িতে স্কুলে বা কলেজে বা কর্মক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে বিভিন্ন চরিত্রের সাথে রোজ পরিচিত হই। তাদের সবাই আমাদের মনের মত হয় না ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাজ আমাদের ভালো লাগা বা খারাপ লাগার সাথে জড়িয়ে থাকে।

কিন্তু কার কাজ গুলোকে আমরা প্রাধান্য দেব এবং তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের মনের উপর প্রভাব ফেলতে দেবো আমরা অনেক ক্ষেত্রে পার্থক্য করে উঠতে পারি না। ফলে আমাদের মন আঘাতপ্রাপ্ত বা আহত হয় অতিরিক্ত চিন্তা করার কারণে। ফলে আমাদের মন আঘাতপ্রাপ্ত বা আহত হয় অতিরিক্ত চিন্তা করার কারণে। অনেক কিছুই আমরা সেইসব ব্যক্তি বা মানুষ কে বা তাদের কাজ গুলোকে নিয়ে অকারণ চিন্তা করে দুঃখ পাই যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান অনুন্নত করতে থাকে। তাই আজকের আলোচনায় আমরা ঠিক করে নেব যে যোগাভ্যাস বা ধ্যান এর মাধ্যমে মনের অতিরিক্ত চিন্তা করা কী করে ঠিক করবো বা অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় চিন্তা করা থেকে কী করে বিরত রাখব।


১. ফল নিয়ে ভাবা বন্ধ করতে হবে আমি অনেক সময় প্রতিদিনের কাজ করি ফলের কথা ভেবে। হ্যাঁ এটা ঠিক যে কাজ করলে প্রত্যেকটি ফলের আশা করে এবং যে জন্য কাজটা করছি যেন তার সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় সেটার জন্যই আমরা উদগ্রীব থাকি। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই শুধুমাত্র ফলাফলের কথা ভেবে আমরা মনের উপর অতিরিক্ত জোর দিয়ে ফেলি যে কারণে মন অতিরিক্ত চিন্তা করে যেমন আমাদের শরীরের ক্ষতি ঘটায় একই সাথে আমাদের কাজের মান অনেকটাই কমে যায়। যে কারণে ভগবত গীতায় বলা আছে যে শুধুমাত্র কর্ম করে যাও ফলের আশা করো না। অর্থাৎ এই পৃথিবীতে আমরা মানুষ হিসেবে যে ধর্ম পালন করতে এসেছি শুধুমাত্র সেটাই করে যাওয়া দরকার ফলের চিন্তা না করে কারণ সঠিক কাজ করলে অবশ্যই ফল সঠিক আসবে। প্রাচীনকাল থেকে যোগাভ্যাস বা ধ্যান করার ক্ষেত্রেও এই একই কথা বলা হয়েছে।


২. ছোটো ছোটো কাজে ভাগ করুন অনেক সময় আমরা দিনের শুরুতে ঘুম থেকে উঠেই ভাবি যে আজকে সারাদিনে কী কি কাজ। যখন সেই দিনের সব কটা কাজ আমরা একসাথে ভাবা শুরু করি তখন আমাদের মন সেই সব কটা কাজ একসাথে শেষ করার জন্য অতিরিক্ত চিন্তা শুরু করে দেয়। তাই সকালে উঠে প্রতিদিন যদি শুরুতে সূর্য নমস্কার করা হয় তাহলে একাগ্রতা যখনই বাড়বে তখন সহজ সরল দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আমাদের মন বড় বড় কাজ গুলোকে ছোট ছোট কাজে ভেঙে নিয়ে সেগুলো সম্পাদনে আগ্রহী হবে।


৩. ধ্যান করুন অনেকেই প্রশ্ন করেন যে মনের চালনা শক্তি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং অতিরিক্ত এই চিন্তা কমানোর জন্য ধ্যান কিভাবে আমাদের সাহায্য করে থাকে। ধ্যান আমাদের যে যে ক্ষেত্রে বিপুল ভাবে সাহায্য করে থাকে তার কিছু উদাহরণ বলা হলো;

-হতাশা কমাতে সাহায্য করে, -অবসাদ কাটাতে সাহায্য করে,

-কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে,

-প্রতিকূল পরিবেশে লড়াই করার মানসিকতা তৈরি করে,

-মস্তিষ্কের উর্বরতা এবং একাগ্রতা বাড়ায়,

-সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়,

-অনুভূতির উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে সাহায্য করে।

উপরোক্ত এই কাজগুলো ছাড়াও ধ্যান আমাদেরকে যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে প্রথমে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। একটা কাজ করার আগে আমরা সবসময় চেষ্টা করি সেটাকে ভালো করে বোঝার। সেই কাজটা কি চাইছে বা কোন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সেই কাজ করা হচ্ছে সেটা ভালো করে বুঝে নেওয়া একান্ত দরকার। এই ক্ষমতা আমাদের মনকে নিতে পারে প্রতিদিনের যোগাভ্যাস ।

৪. সচেতনভাবে ভাবুন কোন কিছুর কেমন খারাপ দিক আছে তেমন ভালো দিকও আছে। যদি এটা কোন ভাবে সম্ভব হয় যে আমরা যে অতিরিক্ত চিন্তা করছি তা যদি ভালোভাবে ব্যবহার করা যায় তাহলে কেমন হয়! ধরে নেওয়া যাক যে আমরা অফিসে কোন একটা কাজ করছি বা কোন রিপোর্ট তৈরি করছি। সে ক্ষেত্রে আমরা সব সময় চিন্তা করি যে কিভাবে এই রিপোর্ট আমাদের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের পছন্দের হবে। একই সাথে যদি আমরা একটু অতিরিক্ত চিন্তা করে ভাবি যে কোন কোন খারাপ দিকগুলো তুলে ধরতে পারে এই রিপোর্ট দেখার পর, তাহলে সহজেই শুধুমাত্র অতিরিক্ত চিন্তা কে ভালো কাজে ব্যবহার করে ভালো এবং খারাপ দুটো দিক এর মধ্যে পার্থক্য সহজে বের করে নেওয়া যায়।


৫. প্রাণায়াম যোগাভ্যাস এর সাথে সাথে প্রতিদিনের রুটিনে যদি প্রাণায়াম কে রাখা যায় তাহলে এই প্রাণায়াম আমাদের মন কে অতিরিক্ত চিন্তা করা থেকে বিরত রাখে। ধরে নেওয়া যাক যে কেউ কোনো কাজ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করছেন বা অতিরিক্ত চিন্তা করার কারণে ভীষণভাবে চিন্তিত এবং অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, যদি কিছু সেকেন্ডের জন্য তিনি প্রাণায়াম করেন তাহলে তার মন অনেকটাই শান্ত হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।

Facebook Comments

" লাইফ স্টাইল " ক্যাটাগরীতে আরো সংবাদ